এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্তির পর এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরপরই মন্ত্রিসভায় রদবদলের আলোচনা জোরালো হয়েছে। সম্ভাব্য এই পুনর্গঠনে নতুন দুই মুখ হিসেবে বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতা এবং মিত্র দলের একাধিক নেতা যুক্ত হতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।
গত ৬ মাসে বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর কাজের পারফরম্যান্স সন্তোষজনক নয় বলে আলোচনা আছে। এছাড়া বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে দু-একজনের ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল হওয়ায় বিষয়টি জোর আলোচনায় এসেছে।
সূত্রমতে, এসব কারণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে সরকারের ভেতরে-বাইরে আলোচনা হচ্ছে। ফলে মন্ত্রিসভার ওই সদস্যরা মনে করছেন, তারা কিছুটা ঝুঁকিতে রয়েছেন।
সূত্রমতে, পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে তারা নিজেরাই দৌড়ঝাঁপ করছেন। পাশাপাশি নতুন যুক্ত হওয়ার আশায় অনেকেই ছুটছেন সিনিয়র মন্ত্রী ও নেতাদের বাসায় বাসায়। মন্ত্রিসভায় নতুন কারা অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন, তা জানার চেষ্টা করছেন তারা। আগ্রহী নেতারা বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের ভূমিকার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি দলের জন্য ত্যাগ-তিতিক্ষার বিষয়টি সামনে আনছেন। এই কাজ করতে গিয়ে মন্ত্রিসভায় থাকা সদস্যদের অতীত ভূমিকারও কথাও টেনে আনছেন কেউ কেউ।
তবে সূত্র জানাচ্ছে, এসব কর্মকাণ্ড এখনো শুধু বিএনপি নেতাদের অভ্যন্তরীণ আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর ওপরই নির্ভর করছে।
যদিও বেশকিছু সিদ্ধান্তের বিষয়ে সাম্প্রতিককালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিনিয়র নেতাদের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বেশির ভাগ নেতার সঙ্গে তিনি পৃথক পৃথকভাবে কথা বলেছেন। কথা বলেছেন সংসদের সব হুইপ ও বিএনপির বেশ কয়েকজন যুগ্ম মহাসচিবের সঙ্গে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রের মতে, দু-একজন ছাড়া প্রায় সবাই মির্জা ফখরুলকে মনোনয়ন দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। ফলে অনেকের ধারণা, মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের আগে এবারও প্রধানমন্ত্রী সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন।
রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্বে এ মুহূর্তে কেউ নেই। গুঞ্জন রয়েছে, একজন সিনিয়র মন্ত্রীকে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তিনি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাকে আনা হবে তা নিয়ে রয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। অনেকের মতে, সালাহউদ্দিন আহমদকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নেওয়া হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
তবে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, মন্ত্রিসভার রদবদল এবং তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ কিছু গণমাধ্যমে যে খবর ছড়ানো হয়েছে, তাতে তিনি বিব্রত।
নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে— মিত্র দলের সংসদ সদস্য বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ এবং টেকনোক্রেট কোটায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপনের নাম মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভূক্তির বিষয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। আবার মিত্র দল নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমানকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করা হতে পারে এমন আলোচনাও রয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
একটি মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রিসভায় রদবদল এটি সরকারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে এখন যে তিনটি মন্ত্রণালয় নিয়ে আলোচনা জোরালো হচ্ছে, সেখানে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রদবদল আসবে এটা নিশ্চিত। তিনি এও বলেন, ওই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে আলোচনাও করা হয়েছে।
মন্ত্রিসভায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, বেশ কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এক্ষেত্রে দু-একজন প্রতিমন্ত্রীর ‘পারফরম্যান্স’ তুলনামূলক অনেক ভালো। মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন হলে তারা পূর্ণ মন্ত্রীও হতে পারেন। এছাড়া সংসদ-সদস্য এবং বিএনপি ও সমমনা দলের দু-একজন নেতা টেকনোক্রেট কোটায় মন্ত্রিসভায় নতুন করে জায়গা পেতে পারেন।
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং ড. আসাদুজ্জামান রিপন মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন। এছাড়া সংসদের হুইপদের মধ্যে দু-একজনকে মন্ত্রী করা হতে পারে।
বিএনপির ‘বঞ্চিত’ বলে আলোচনায় থাকা নেতারাও মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের দিকে তাকিয়ে আছেন। এদের মধ্যে ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে হামলা-মামলা ও নির্যাতন সহ্য করেও মূল্যায়ন না হওয়া নেতাদের নিয়ে আলোচনা বেশি। এদের মধ্যে—স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।
ঢাকার একজন মন্ত্রী ও দেশের উত্তরাঞ্চলের ২ জন প্রতিমন্ত্রীর বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক আলোচনা ছড়িয়েছে। ফলে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন হলে তাদের অবস্থান কী হবে এ নিয়ে নেতাকর্মীরা অপেক্ষায় রয়েছেন।